শেয়ারড ডিলিউসন
শেয়ারড ডিলিউসন (SD)। সম্ভবত মিসির আলির কোনো একটা এপিসোডে এই টার্মটার সাথে পরিচিত হই। তখন এটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করি। কিছুদিন আগে কে যেনো একটা নিউজ শেয়ার করে– যেখানে পঁচাত্তরোর্ধ দুজন স্বামী-স্ত্রী একই সাথে সুইসাইড করে। যেখানে তারা তাদের ছেলের ডেলিভারি বয় হিসাবে কাজ করাকে – সোশিয়ালি হাম্বলিং মনে করে ঘটনাটি ঘটায় বলে ধারনা করা হয়।
এখন SD ডিসঅর্ডার এ ভোগা একজন প্রাইমারি পেইশেন্ট তার ডিলিউসন বা সাইকেয়াট্রিট বিলিফ অন্যের মধ্যে ট্রান্সফার করে দেয়। সে তার এই ডিলিউসন কে সত্য হিসেবেই ধরে নেয় এবং বুঝতেই পারে না যে– সে অন্যকেও সংক্রমিত করে দিচ্ছে।
এই যে প্রাইমারি পেশেন্ট আর সেকেন্ডারি পেশেন্ট এদের মাঝে ইমোশনাল Contagion থাকা জরুরি। এদের উদাহরণ কারা?
যেমন- স্বামী-স্ত্রী, মা-ছেলে, কিংবা ভাই-বোন।
শেয়ারড ডিলিউসনের আমার বাস্তব জীবনের কতগুলা উদাহরণ লক্ষ করা যায়। এক্ষেত্রে আমার মায়ের সাথে আমার স্পিরিচুয়াল কানেকশন প্রবল। উনার কোনো সিরিয়াস কথার দ্বারা আমার উপর প্রভাব বিস্তার, পরে হ্যালুসিনেশন এর শিকার হওয়া।
দিল্লিতে শেয়ারড ডিলিউশনের একটা মারাত্মক ঘটনা দেখা যায়। যেখানে একই পরিবারের ১১ জন একই সাথে সুইসাইড করে।
পরে তাদের ডায়েরী থেকে জানা যায় তারা ডমিনেন্ট সদস্যটির প্রভাবে গুপ্ত সাধনা করত এবং সিদ্ধি লাভ করতে চেয়েছিল।
মানুষ তার করোটির মধ্যে কত বিচিত্র সব জিনিস ধারন করে রাখে! অবাক হই। তার ব্রেনটি যেন এক শহর। যেখানে নিউরনে নিউরনে আলাপ হয়, গুঞ্জন চলে। কোটি কোটি তরঙ্গ প্রবাহিত হয় সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো। সেই শহরে বহুসময় বিজ্ঞানের প্রবেশে রয় নিষেধাজ্ঞা।

Comments
Post a Comment